T.A.M · The Air Media
← Back to live feed
Weightage 88 3 outlets citing General IN

Lifestyle and investment guidance: Mahabharata lessons, stock market tips, and Vastu for new homes

Various outlets provide lifestyle and financial advice, ranging from philosophical lessons from the Mahabharata to investment strategies for beginners and Vastu guidelines for housewarming ceremonies.

First reported 5 days ago · latest update 4 days ago
T.A.M verified this synthesis across 3 independent outlets. The headline and summary are written neutrally from all citations below.
Eisamay Authority 82

এই সিরিজ়ের আগের একটা পর্বে আমরা দেখেছি, নিজেদের বেঁধে দেওয়া নিয়ম ভেঙে ফেলার পরে অর্জুন স্বেচ্ছায় বারো বছরের নির্বাসনে গিয়েছিলেন, যদিও কেউ তাঁকে অভিযুক্ত করেনি। সেখানে প্রশ্নটা ছিল, দুঃসময়ে মানুষ কী ভাবে টিকে থাকে।

এখানে প্রশ্নটা আলাদা। দুঃসময়ে মানুষ কী জমা করে?

ওই বারো বছরে অর্জুন যা করেছিলেন, সেটা আজকের চোখে দেখলে একটা দীর্ঘ ভ্রমণ। উত্তরে হিমালয়, পূর্বে সমুদ্রতট, দক্ষিণে মণিপুর, পশ্চিমে দ্বারকা। পথে তৈরি হলো তিনটি সম্পর্ক - নাগরাজকন্যা উলূপী, মণিপুরের রাজকন্যা চিত্রাঙ্গদা, আর দ্বারকায় সুভদ্রা।

সে যুগের হিসেবে এগুলো ব্যক্তিগত সম্পর্ক তো বটেই, একই সঙ্গে রাজনৈতিক জোটও। এবং এখানেই আসল কথাটা: এই জোটগুলোর কোনওটাই সেই মুহূর্তে কোনও কাজে লাগেনি। কাজে লেগেছিল কুড়ি বছর পরে।

সমাজবিজ্ঞানী মার্ক গ্র্যানোভেটার ১৯৭৩ সালে একটা প্রবন্ধ লেখেন, যেটা আজও নেটওয়ার্ক নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্ধৃত লেখাগুলোর একটা। তিনি দেখেছিলেন, মানুষ নতুন চাকরির খবর সাধারণত ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের কাছ থেকে পান না। পান দূরের চেনাশোনাদের কাছ থেকে।

কারণটা সরল। আপনার ঘনিষ্ঠ বৃত্তের লোকেরা প্রায় একই জায়গায় ওঠাবসা করেন, তাই তাঁদের খবরও প্রায় আপনার খবরের মতোই। নতুন কিছু আসে বাইরের বৃত্ত থেকে।বিরাটরাজার অন্দরমহলে তখন নাচের ক্লাস চলছে।

রাজকন্যা উত্তরা আর তাঁর সহচরীরা শিখছেন। শেখাচ্ছেন বৃহন্নলা - কানে দুল, হাতে চুড়ি, আর বাহারি কায়দায় বাঁধা খোঁপা। রাজবাড়ির কেউ তাঁকে নিয়ে দ্বিতীয় বার ভাবেন না।

আর ওই একই সময়ে গোটা আর্যাবর্ত জুড়ে দুর্যোধনের গুপ্তচরেরা ছয় জন মানুষকে খুঁজে বেড়াচ্ছেন। পঞ্চ পাণ্ডব আর পাঞ্চালী। প্রতিটা রাজ্য, প্রতিটা তীর্থ, প্রতিটা সন্দেহজনক আশ্রম। এক বছর ধরে খুঁজেও তাঁরা সম্পূর্ণ ব্যর্থ।

কারণ যাঁদের খোঁজা হচ্ছিল, তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত ধনুর্ধর তখন নাচের ক্লাস নিচ্ছিলেন। আর এই ছদ্মবেশটা অর্জুন নিজে তৈরি করেননি।

ওটা তাঁকে দেওয়া হয়েছিল শাস্তি হিসেবে।

ঘটনাটা ঘটেছিল অনেক আগে, ইন্দ্রলোকে। স্বর্গের অপ্সরা উর্বশী অর্জুনের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন। অর্জুন সবিনয়ে সরে দাঁড়ান - বংশপরম্পরার সম্পর্কের যুক্তি দেখিয়ে তিনি উর্বশীকে মাতৃসম বলে সম্বোধন করেন।

উর্বশী অপমানিত হয়ে অভিশাপ দেন, তুমি নপুংসক হয়ে থাকবে, মেয়েদের মাঝখানে নাচগান শিখিয়ে জীবন কাটাবে।

মানসপুত্রের পরিত্রাণে এগিয়ে আসেন ইন্দ্র। অভিশাপটা পুরোপুরি ফেরাতে পারেননি, শুধু নরম করে দিয়েছিলেন - এটা চিরস্থায়ী হবে না, মাত্র এক বছরের, আর সেই বছরটা অর্জুন নিজে বেছে নিতে পারবেন।

এই ঘটনার দিন এটা কোনও উপহার মনে হয়নি কারও কাছে। বরং মনে হয়েছিল, বড় ক্ষতির একটা সামান্য মেরামত মাত্র।

অথচ বহুদিন পরে অজ্ঞাতবাসের বছরটায় ওই একটা জিনিসই পাঁচ জনের জীবন বাঁচিয়ে দিল। কারণ গুপ্তচরেরা যোদ্ধা খুঁজছিলেন, রাজপুত্র খুঁজছিলেন। কেউ নাচের শিক্ষক খোঁজেননি।

বিশ্বখ্যাত লেবানিজ়-আমেরিকান লেখক এবং ঝুঁকি-বিশেষজ্ঞ নাসিম নিকোলাস তালেব এই ধরনের জিনিসকে বলেন ‘অ্যান্টিফ্র্যাজাইল’। ভঙ্গুর জিনিস ধাক্কায় ভেঙে যায়। শক্তপোক্ত জিনিস ধাক্কা সয়ে নেয়। কিন্তু কিছু জিনিস আছে, যেগুলো ধাক্কা খেয়ে আসলে আরও কাজের হয়ে ওঠে। তাঁর যুক্তির কেন্দ্রে আছে একটা কথা - অনিশ্চিত ভবিষ্যতে সবচেয়ে দামি জিনিস হলো বিকল্প। যত রকম বিকল্প হাতে থাকে, ভবিষ্যৎ যে দিকেই যাক, একটা না একটা কাজে লাগে।

লক্ষ করার মতো ব্যাপারটা এই - ইন্দ্রের সংশোধনীর সবচেয়ে দামি অংশটা ‘এক বছর’ নয়। দামি অংশটা হলো ‘নিজে বেছে নিতে পারবে’। সময়টা নিজের হাতে থাকা মানেই ওটা আর অভিশাপ নয়, ওটা একটা হাতিয়ার।

আজকের ভাষায় বলা যায় - যে দক্ষতাটা আপনি বাধ্য হয়ে শিখেছিলেন, সেটার দাম নির্ভর করে আপনি কখন সেটা ব্যবহার করবেন, তার উপর।

কারণটা সরল। আপনার ঘনিষ্ঠ বৃত্তের লোকেরা প্রায় একই জায়গায় ওঠাবসা করেন, তাই তাঁদের খবরও প্রায় আপনার খবরের মতোই। নতুন কিছু আসে বাইরের বৃত্ত থেকে।

আর এক গবেষক, রোনাল্ড বার্ট, এর সঙ্গে যোগ করেছিলেন আরও ধারালো একটা কথা। দুটো আলাদা বৃত্তের মাঝখানে যদি কোনও ফাঁক থাকে, আর আপনি যদি সেই ফাঁকের উপর সেতু হন - তাহলে ক্ষমতাটা আপনার হাতে। কারণ দু’দিকের খবর, দু’দিকের সম্পদ, দু’দিকের সুযোগ আপনার মধ্যে দিয়ে যায়।

অর্জুন ওই বারো বছরে ঠিক এই সেতুর জায়গাটাই নিয়েছিলেন। হস্তিনাপুরের রাজপরিবারের সঙ্গে নাগ, মণিপুর ও যাদবকুলের মধ্যে সরাসরি কোনও যোগ ছিল না। যুদ্ধের সময় সেই যোগগুলো দাঁড়িয়ে গিয়েছিল।

এখানে একটা সতর্কতা জরুরি। এটাকে ‘নেটওয়ার্কিং’ বলে ভেবে নিলে পুরো কথাটাই হালকা হয়ে যায়। নেটওয়ার্কিং মানে সাধারণত লক্ষ্য ঠিক করে সম্পর্ক তৈরি করা - এই লোকটা কাজে লাগবে, তাই আলাপ রাখি। অর্জুনের ক্ষেত্রে তেমন কিছুই ছিল না। তিনি জানতেন না ভবিষ্যতে যুদ্ধ হবে, জানতেন না কারা পাশে দাঁড়াবেন।

তিনি শুধু জায়গাগুলোয় সত্যিকারের ভাবে উপস্থিত ছিলেন। বাকিটা সময় করেছে।

কাজের সূত্রটা তাই ‘দরকারি লোকের সঙ্গে আলাপ রাখুন’ নয়। সূত্রটা হলো - নিজের বৃত্তের বাইরে যাওয়ার সুযোগ পেলে যাবেন, এবং সেখানে দায়সারা ভাবে থাকবেন না। কোনটা কাজে লাগবে, সেটা আগে থেকে জানা যায় না বলেই বিকল্পের সংখ্যাটা বাড়িয়ে রাখতে হয়।

তবে ছবিটা একতরফা নয়, আর সেটা বলে না দিলে এই পর্বটা মিথ্যে হয়ে যাবে।

ওই বারো বছরে তৈরি সম্পর্কগুলো থেকে অর্জুন যেমন জোট পেয়েছিলেন, তেমনই পেয়েছিলেন দুই পুত্র - ইরাবান আর অভিমন্যু। দু’জনেই কুরুক্ষেত্রে মারা যান। আর তৃতীয় পুত্র বভ্রুবাহনের সঙ্গে অর্জুনের সংঘাতের কাহিনিও মহাভারতে আছে, যেখানে পিতা-পুত্রের যুদ্ধে অর্জুন প্রাণ হারাতে বসেছিলেন।

অর্থাৎ যে সম্পর্কগুলো তাঁকে বাঁচিয়েছিল, সেই একই সম্পর্কগুলো তাঁকে সবচেয়ে বড় শোকও দিয়েছিল।

এই সিরিজ়েরই আগের একটা পর্বে আমরা দেখেছি, প্রতিটা সিদ্ধান্তের ফল কয়েক স্তরে ছড়ায় আর সব স্তর একই দিকে যায় না। এখানেও তাই। খারাপ সময়ে যা জমা হয়, তার সব কিছু সম্পদ নয়। কিছু দায়ও।

কেরিয়ারের যে সময়গুলোকে আমরা ‘নষ্ট’ বলে ধরে নিই - বদলি হয়ে অচেনা শহরে দু’বছর, পদোন্নতি আটকে থাকা একটা পর্ব, ব্যর্থ একটা প্রকল্পে কেটে যাওয়া মাসগুলো - ওই সময়ে আসলে দুটো জিনিস একসঙ্গে ঘটে। উপরের স্তরে কিছু হচ্ছে না। আর নীচের স্তরে কিছু জমা হচ্ছে, যেটা তখন গোনা যায় না।

অর্জুন বারো বছরের নির্বাসনকে কেরিয়ারের ফাঁক হিসেবে দেখেননি। আর উর্বশীর অভিশাপকে তিনি ফেলে দেননি, তুলে রেখেছিলেন।

দুটোই পরে কাজে লেগেছিল, তবে যে ভাবে কাজে লাগবে বলে কেউ ভাবেনি, সে ভাবে নয়।

এই সপ্তাহে গত তিন বছরের মধ্যে যে সময়টাকে আপনি সবচেয়ে বেশি ‘নষ্ট’ বলে মনে করেন, সেটা বেছে নিন। এক লাইনে লিখুন কোন সময়, কেন নষ্ট।

এ বার তিনটে জিনিস লিখুন, যা ওই সময়ে তৈরি হয়েছিল আর আজও আছে - একটা মানুষ, একটা দক্ষতা, একটা অভ্যাস। জোর করে না, যা সত্যিই আছে তাই।

তিনটেই যদি ফাঁকা থাকে, তা হলে সময়টা সত্যিই নষ্ট হয়েছিল। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অন্তত একটা ঘর ভরে যায় - আর সেটা হয়তো এত দিন আপনার হিসেবের বাইরে ছিল।

↗ Read the original at Eisamay

Citations · 3 reports from 3 outlets

Tap a citation to read it above, right here on T.A.M.

82 Eisamay ★ most authoritative citation

পর্ব ১৩ — খারাপ সময়ে যে সম্পদ তৈরি হয়, শিক্ষা দিচ্ছে মহাভারত - Ei Samay

পর্ব ১৩ — খারাপ সময়ে যে সম্পদ তৈরি হয়, শিক্ষা দিচ্ছে মহাভারত Ei Samay

5 days ago
81 Sangbad Pratidin

পুজোর মুখে নতুন বাড়ি? জেনে নিন বাস্তুমতে গৃহপ্রবেশের সঠিক সময় ও নিয়ম - Sangbad Pratidin

পুজোর মুখে নতুন বাড়ি? জেনে নিন বাস্তুমতে গৃহপ্রবেশের সঠিক সময় ও নিয়ম Sangbad Pratidin

4 days ago
80 Google News Bengali Business

শেয়ার বাজারে প্রবেশের সময় নতুন বিনিয়োগকারীদের কী কী এড়িয়ে চলা উচিত, যাতে তারা বাজার ছেড়ে চলে না যান? - Vietnam.vn

শেয়ার বাজারে প্রবেশের সময় নতুন বিনিয়োগকারীদের কী কী এড়িয়ে চলা উচিত, যাতে তারা বাজার ছেড়ে চলে না যান? Vietnam.vn

5 days ago

Discussion

Read it on the T.A.M app Weighted news · citations · ad-free
Get the app